Skip to main content

গর্জন

                                  গর্জন                      প্রতিবাদে আমরা 

                   সম্পাদক : সন্দীপ দাস 

---------------------------------------------------------------------------

সম্পাদকের কলম : 

চারিপাশে যত দেখছি , শুধুই অবাক হয়ে যাচ্ছি ।। মানুষ আজ মানুষের শত্রু ।। নানা অন্যায় আজ সমাজের ভীত ।। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চারিত কণ্ঠ হল গর্জন ।।
---------------------------------------------------------------------------

লেখক তালিকা 

১. সন্দীপের কবিতা সিরিজ 
২. বাকি সকলের কবিতা ও গল্প 

---------------------------------------------------------------------------

১. সন্দীপের কবিতা সিরিজ 
-------------------------------------

কলঙ্কিনী সতী 

আমার ছিটিয়ে যাওয়া দেহখানি ,
কিছুটা আদর পেয়েছিল ; সেই যন্ত্রণার মাঝে l 
জানি না কোন কুক্ষণে নাম দিয়েছিল ,
রূপকুমারী l  রূপের সে কত গুন :
কেউ ছিড়ে খেল , কেউ খেয়েছে কামড়ে l 
এক নয় , দুই নয় - পাঁচ পাঁচটি শরীর -
আর মাঝে যন্ত্রনায় চিত্কার করছে : 
একটি মাল :  নগ্ন , বিবস্ত্র একটি পণ্য l 
এই আমার বর্তমান আর 
কলঙ্কিনী আমার পরিচয় l 
লোকে বললো , 
নষ্ট মাগী - লজ্জা করে না l 
ইজ্জত টা বিকিয়ে এলি !
ছি! দূর হয়ে যা l 
কুকুর যদি কামর দিত ; মানিয়ে নিতাম ঠিক ,
কিন্তু এরা তো মানুষ ; 
এ কামড়ের জ্বালা বড়ই অসয্য ;
এ জ্বলন সওয়া ভিসন দায় l 
শান্ত নারী , মাত্রিরুপি , 
 নয় এ কোনো পুরুষ ভোগ্য পণ্য l 
ওরে মুর্খ , ভুলে যাস না ;
মোদের ওই 
কোমল স্তনের দুগ্ধ হতেই ;
ওই পুরুষ জাতির জন্ম l



কুরুক্ষেত্র 

গর্জে ওঠো নীরব মুখে 
দাও তালা আজ পাথরের ওই 
মন্দির , গির্জা বা মসজিদে ।।
মানুষের মাঝে বিরাজে উপেক্ষিত যে নারায়ণ 
আজ সে শুধুই অসহায় ভাবে চেয়ে ।।
চাই একটা রুটি বা একটু গরম আহার ,
প্রয়োজন নেই কোন বিলাসিতার তার 
অথবা কোন কঠিন সম্প্রচার ।।

ভেঙে দাও ওই চার দেওয়াল 
পুড়িয়ে ফেল বানী ঠাসা পুঁথির পাতা সব ,
মানুষ হয়ে উঠতে যারা প্রধান বাঁধা 
ধ্বংস কর তাদের সম্পূর্ণ অস্তিত্বের ।।
চেয়ে দেখ , কাঁদছে আজও ওই দূরে 
এ যুগের দ্রৌপদিরা , 
কৃষ্ণের বাঁশির সুরে আজ কাজ নেই আর 
পারলে , ধর তুলে এযুগের কামান গোলা ।।


হোক না আবার এক কুরুক্ষেত্র , ক্ষতি কি !!
ঈশ্বর দেখি কেমন তুমি শক্তিমান --
যজ্ঞের আহুতি দিয়ে দিন কাটে যার 
চল দেখাই যাক , 
তার সাম্রাজ্যে লক্ষ্য শরীর কেমন থাকে অনাহার !!
ধর্মের ধ্বজা দাও গো এবার ছিঁড়ে ,
ওর মুখে এবার তবে কন্ডোম পড়াও ---
নিয়ন্ত্রণ হবে যেদিন তোমার ক্ষমতা সকল 

স্বাধীনতার জোয়ারে ভাসবে সেদিন বঞ্চিত এই মানবকুল ।।



শরণার্থী 

ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে চোখ তার 
যেন অনেক কিছুই বলতে চায় ,
ঘর হারিয়েছে , ভাগ্যে জুটেছে মার 
তাই অপরের ঘর বাড়ি পেলেই নজর থামায় ।।
ওপাশের বাড়ি , শুনেছিল খুব উদার 
যদি দয়া করে একটা রাতের ব্যবস্থা করে দেয় 
ভাবছিল মনে মনে , কত ভালোই না হত তাহলে !!
অনেক আশা নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল ,
মস্ত পাঁচিল সামনে তার , পার করে সাবধানে --
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে জোরে চিৎকার দিল , 
" কেউ কি ঘরে আছেন ? আমার খুব বিপদ 
দয়া করে যদি আশ্রয় দেন , বেশি নয় কয়েকটা রাত "।।
প্রহরী থেকে মালিক বেরিয়ে এল রেগে ,
আদেশ এল হাওয়ায় ভেসে , " ওরে কে আছিস , 
বের করে দে , দূর করে দে বজ্জাত টাকে ।। কে জানে 
কি পরিচয় , কি জাত , কোন ধর্মের ওটা , 
দিন কাল তো ভাল ঠেকে না আজকাল 
যাকে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে নেওয়াটাও এক বড় সাজা ।।"
ছেলেটির চোখে জল , গড়িয়ে পড়ে টপ টপ 
আর তাই দেখে দিদিমনি বেরিয়ে এল ঘর থেকে ;
নরম মনে কাছে ডেকে বলে , "বেচারা , বাচ্চা ছেলে 
থাকুক না আমাদের ঘরে , কি হবে এত শত ভেবে !!"
উদ্বাস্তুর মত ওদের ঘরে ঠাঁই পেয়েছিল সেই রাতে 
আর সকাল হল যখন , সবাই দেখে পরিচয় বদলে গেছে 
ওদের সকলের ।। 
মালিক এখন সামান্য বেতনভুক চাকর , গৃহিণী তার পরিচারিকা 
আর সেই রাতের সেই যাযাবর আদেশ করে চাবুক ধরে 
" বিনা কাজে নাহি মিলবে এখানে , এক মুঠো খাবার , 

এক বিন্দু পানি ।।"



আমার দুর্গা 

আমি এই মাটির দুর্গা চাই না ।।
চাইনা সেই দুর্গা যে রোজ রাতে 
পৃথিবীর কোনায় কোনায় চিল্লায় বাঁচাও বাঁচাও বলে ।।
চাইনা সেই দুর্গা যার মন্দিরে দুর্গার প্রবেশ হবে নিষিদ্ধ 
সামান্য মাসিক হয়েছে বলে ।।
চাইনা সেই দুর্গা যার সময় চলবে সূর্যের সাথে সাথে 
চাইনা সেই দুর্গা দিন কাটবে যার 
পরিবার , স্বামী , পুত্রের হাতে হাতে ।।
আমি চাইনা সেই দুর্গা যে সমাজের সাথে 
পারে না দুটো পা চলতে ,
পোশাক থেকে খানা পিনা ফতোয়ায় মোড়া মুখখানা 
তবু অসহায় দুর্গা পারে না কিছুই বলতে ।।
আমি চাই না সেই দুর্গা যার পথ হবে সংরক্ষিত 
চাই না সেই দুর্গা যার পরিচয় সমাজে উপেক্ষিত ।।

দুর্গা মানে আমার কাছে এক তেজ , এক শক্তি 
দুর্গা মানে আমার কাছে সৃষ্টি , সৃজন ও ভক্তি ।।
দুর্গা মানে আমার কাছে এগিয়ে চলার ভাষা 
দুর্গা মানে আমার কাছে অযাচিত ভালবাসা ।।

আমি সেই দুর্গা মানি যার সাথে উড়ে যাওয়া যায় 
কাশ বনের জঙ্গলে হারিয়ে শৈশব ফিরে পাওয়া যায় ,
নতুনের খোঁজ আমার দুর্গা , অধর্মের বিনাস আমার দুর্গা 
অসুরের আসুরিক গুন মাড়িয়ে এগিয়ে চলা 
কারুর অপেক্ষায় নয় , সবার জন্য প্রতিবাদের ভাষা বলা ।।
সেই তো দুর্গা যার দুর্গ অটল সর্বদা মানুষের জন্য 
অপু থেকে বর্তমান আমার দুর্গা সর্বত্র 
স্বাধীন সুন্দরী ও সম্পূৰ্ণা ।।




অভাবের দাম শরীর


দু মুঠো ভাতের খোঁজে 
এক হাঁড়ি জল যখন শুকিয়ে যায় ।।
ছেঁড়া শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে 
তখন আর সে দাগটুকু কার নজরে ধরা দেয় !!

ওরা চেনে শুধু শরীর 
ঢেউ খেলা সৌন্দর্যের চিৎকার ।।
ওদের কান দুটো আজ বধির 
তাই তো এই অভাব ওদের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ।।

দেখতে দেখতে এত গুলো বসন্ত পার 
কত ব্যর্থ চেষ্টা দেখেছিল একটা জীবন ।।
এবার বাতি নিভে স্বপ্ন যখন অন্ধকার 
পেটের টানে ব্যবসা হয়ে পসরা সাজায় ধর্ষণ ।।

অন্ধকার ওই গলির ফাঁকে কিছু লাশ বসে আছে রাস্তায় 

আমি ছেড়ে গেলাম তোকে ওদের পিছু খদ্দেরের অপেক্ষায় ।।




মাসিক মানা 

আগমনীর ব্যস্ত সুরে , মা আসবেন ঘরে ঘরে 
উৎসব মুখর কটা দিনের জন্য ।।
কিন্তু এরই মাঝে গাঁয়ের মেয়ে জ্যোৎস্না , 
পুজোর বেদির ধারে ঘেঁষতে পারছে না এ বছর :
সামাজিক হুকুম আছে যে ।।
সংস্কৃতি আর ধর্মের দোহাই , ওর যে মাসিক হয়েছে ভাই 
রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় দুটো পায়ে গড়িয়ে পড়ছে  ,
এ অবস্থায় তাকে কি আনা যায় বলুন ??
কিন্তু সেও তো একটা মেয়ে , তবু সংস্কৃতি , রীতি নীতি 
সব আলাদা কেন তার জন্য !!
মাতৃ পূজায় মাতৃ অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ হবে কেন ??
পৃথিবী বলে কথা , তাই মাসিক হলে পুজোর ঘরে ঢুকতে মানা 

মাগো , তোমারও তো দুই মেয়ে ; ওদের কি মাসিক হয় না ??




নষ্টা 
( সম্পূর্ণ একব্যক্তির মুখ থেকে শোনার ভিত্তিতে লেখা ।। অভিজ্ঞতা তার , কিন্তু না লিখে পারলাম না )

১।।
কাপড় খোলা উলঙ্গ শরীরটা সামনে টোপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।। লজ্জা শরম কিছুই নেই মাগীটার ।। শব্দটা বলেই মনের ভেতরটা কেমন ঝিনঝিনিয়ে উঠল ।। বেশ তো আজ রাতের জন্য তাকে কিনে নিয়েছি আমি কিন্তু তাই বলে কি ওকে একটুও সম্মান দিতে নেই ।। এরকম হাজার কথা ভাবছিলাম যখন , তখন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সোনাগাছির সেই বেশ্যাটি আমায় বলল , কি ড্যাবড্যাব করে দেখে যাচ্ছিস আমায় ? শরীরটা তো খুলে দিয়েছি ।। খাবি তো খা না ।। এত বড় বড় মাই , একটুও ইচ্ছে হচ্ছে না টিপতে , অন্তত হাত দিতে ।। কেমন যেন শরীর জুড়ে কাঁটা দিয়ে উঠল ।। কত সহজে এই কথাগুলো বলছে , তাই ভাবছি ।। ও কি বোঝে না কি চাইছে ও আমার কাছে ।। সাহস করে উঠে গিয়ে ঘাড়ের কাছটা ছুঁয়ে দেখলাম ।। অমনি আমার দিকে ঘুরে বলল , এত লজ্জা কেন রে তোর ?? লজ্জা পেল কি করতে এসেছিস এখানে ?? 
কিছুই বলতে পারলাম না তৎক্ষণাৎ ।। তবে আস্তে আস্তে বিছানায় এনে বসালাম ওকে ।। একটা চাদর দিয়ে শরীরটা ঢেকে দিয়ে প্রশ্ন করলাম , তোমার বাড়ি কোথায় ? বললো , এই কলকাতাতেই ।। আমি বললাম , বাড়িতে কেউ জানে না তুমি এসব করছ ? দেখলাম , বাড়ির নাম শুনেই ওর চোখের কোনে দু ফোঁটা জল দেখতে পেলাম ।। বললো , বাড়িতে কেউ নেই ... বাবা , মা দুজনেই মারা গেছে ।। আর এক বয় ফ্রেন্ড ছিল , তারও কেউ নেই - দুটি বোন শুধু ।। তাদের দেখাশোনার জন্য একটা ফার্মে চাকরি করত ।। একদিন ট্রেন থেকে পড়ে দুটো পা কাটা পড়ে ।। সঙ্গী হিসেবে ওর দায়িত্বটুকু পালন করছি আমি ।। কিন্তু এইভাবে !! ওকে বললাম ।। ও বললো , তা কি করব বলুন , নষ্টা মেয়েকে যে ছেলেটি জীবনে জায়গা দিয়েছে , এই অনেক নয় কি ?? নষ্টা !! শুনেই কেমন ঘাবড়ে উঠলাম ।। কি বলতে চাইল ও আমাকে , এই জীবনটার কথা নাকি অন্য কোন ইতিহাস ওর জীবনের !!

২।।
রাত গভীর হতে লাগল ।। এদিকে আমার সামনে সেই নষ্টা , আর পিছনে অনেক দায়িত্ব ।। তার উলঙ্গ সেই শরীরটা মাঝে মাঝে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি , দেখেছি তার উরু নাভি বা বক্ষের ডগায় হালকা চুম্বন করে ।। কিন্তু প্রতিবার এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া হয়েছে , আমার জন্যই আজ এ নষ্টা নয় তো !! এভাবেই ধীরে ধীরে তার ঠোটেঁর ওপর ঝুকে ঠিক যখন একটা চুম্বন করতে যাব অমনি সে আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিল , বলল , ওই স্থানটির অধিকার একজনের ।। আপনি বাকি শরীর নিয়ে যা খুশি করুন ।। আর তাছাড়া তখন থেকে কি চেটে যাচ্ছেন ?? কাজ করবেন না ?? একদিকে আমাদের মেয়েদের বিয়ের আগে যা নিষেধ , এরা কত সহজে তাই করে চলে রাতের পর রাত জুড়ে ।। বেশ অবচেতন ভাবেই বলে উঠলাম , না ।। শুয়ে থাকা শরীরটা উঠে বসল , মুখ ফুটে বলল , সে কি !! করবি না ।। তাহলে এত দাম দিলি কেন ?? 
তোর গল্প শুনব বলে , শুধু এটুকু বলে উঠলাম ।। একথা শুনে একবার মুখের দিকে চেয়ে দেখল (সমাজের ভাষায় ) মালটি ।। তারপর একটা মুচকি হেসে বলল , আমার গল্প কি আর শুনবি !! আমি কে বল !! সমাজ বলে বেশ্যা আর তোরা মাল ।। দিন রাত কত লোক নিজেদের শখ পূরণ করে এই শরীর কেন্দ্র করে ।। এই যে গোল গোল দুটো বলের মত বুকের ওপর , কত জন এটা চুষে যায় , কামড়ে যায় , টিপে যায় ।। যন্ত্রনা হয় , তবু সহ্য করি , কেন জানিস ?? একটা ভালবাসা আর একটা জীবনের কথা মাথায় রেখে ।। এই দেখ দুটো পা , তারই মাঝখানে এই যে ফুটো ওটাই সবার স্বর্গ -- আর যখন তারা স্বর্গ সুখ ভোগ করে তখন আমার নরক যন্ত্রনা ওরা বোঝে না আর বুঝবেও না ।। দিনে কতবার এই শরীর অচেনা লোকের সামনে খুলে দিই ।। তোরা ওই ইংরেজি তে কি যেন বলিস , হ্যাঁ , স্পার্ম -- ওর কত ফোঁটা এই শরীর ভরে পরে থাকে , তাকিয়ে দেখে না কেউ ।। ওর প্রতি কথায় আগুন বেরোচ্ছিল , মনে হল পুরো শরীর , মন জ্বলিয়ে ছারখার করে দেবে ।। আমাকে অবচেতন দেখে মেয়েটি একটা হালকা ধাক্কা দিয়ে বললো , ছাড় , এসব শুনে লাভ নেই ।। তার চেয়ে নে দুধ খা , গর্তের মধ্যেকার স্বর্গীয় সুখে মেতে ওঠ , সেটাই ভাল হবে ।। আমি বললাম না , সেটা অন্যায় হবে ।। সবার মত আমিও হয়ে গেলে , আমি বলে কিছু থাকবে না , তারচেয়ে রাত অনেক বাকি তুই তোর গল্প বলে যা ।। আমি শুনবোই ।। 

৩।। 
বিয়ারের ক্যানটায় দুচুমুক দিয়েই আমার দিকে বাড়িয়ে দিল ।। প্রথমে একটু ইতস্তত বোধ করলেও অবশেষে হার মানতেই হল ওর জেদের কাছে ।। এঁটো ক্যানে একচুমুক দিতেই হল শেষমেষ ।। তারপর আমার কাছে এগিয়ে এসে বলল , " এই যে নষ্টা কে দেখছিস , সে একদিন ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল ছিল ।। আমি বাংলায় মাস্টার্স ।। " কথাটা শুনে কেমন যেন অবাক হয়ে গেলাম ।। একজন মাস্টার্স আজ এই ব্যবসায় ।। ঠিক মেনে নিতে পারছিলাম না কথাগুলো ।। ও কিন্তু বলে চলল , আমার নাম স্বপ্না , স্বপ্না চৌধুরী ।। অনেক স্বপ্ন বুকে ছিল একদিন ।। বাবা একটা ইস্কুলের মাস্টার ছিল আর মা একজন গৃহবধূ ।। টাকার অভাব হয়ত ছিল , কিন্তু কোনদিন কোন কষ্ট পেতে হয়নি আমায় ।। যখনি যা চেয়েছি পেয়েছি ।। কিন্তু ভাগ্য আমার ওপর খুশি ছিল না ।। এটুকু বলে একটা সিগারেট ধরালো নষ্টা ।। আমাকেও অফার করে কিন্তু আমি মানা করে দিই ।। এই দেখে এক গাল হেসে বলতে শুরু করল সে আবার , কোথায় ছিলাম আমরা , হ্যাঁ , বাবা আর মা আর আমার পোড়া কপাল ।। তখন কলেজের প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি সবে ।। ক্যানিং যাওয়ার পথে একটি বাস এক্সিডেন্ট.... এত দূর বলেই কাঁদতে শুরু করে দেয় সে ।। তাকে স্বান্তনা দিতে বুকে জড়িয়ে ধরি ।। সেও আমাকে জড়িয়ে ধরে ।। কি বলব কিছুই ভেবে না পেয়ে শুধু বলে উঠলাম , তারপর ?? নিজের চোখ মুছে নিয়ে আবার এগোতে শুরু করল নষ্টা ।। তারপর !! সেই বিভীষিকাময় দিন গুলো ধেয়ে এল আমার দিকে ।। আমার দায়িত্ব নিল আমার পিসেমসাই ।। পুরোনো কষ্ট গুলো তখনও ভুলতে পারিনি আমি , আর তারই মাঝে শুরু হল আমার ওপর জোর জুলুম অত্যাচার ।। বাড়ির সব কাজ করতে হত - না করলে ভাগ্যে জুটত মার ।। অসহ্য !! সে দিনগুলো ।। তারচেয়ে এই দেহবেচা অনেক সোজা ।। হ্যাঁ , এখন না হয় লোকে আমায় নষ্টা বলে , তাতে কি হয়েছে ?? শরীরে আঁচড়ায় , কামরায় , মাল দিয়ে সাজিয়ে দেয় বুক থেকে পেট ।। কিন্তু , বুঝলি , তাতেও অনেক শান্তি আছে ।। ওটা ছিল নরক আর এটা স্বর্গ না হোক , তারই কাছাকাছি কিছু ।।

৪।।
ঘড়িতে তখন দুটো বাজে ।। নষ্টা বলে চলেছে তখনও নিজের নরক যন্ত্রণাটা ।। পিসেমসাই ও পিসিমা কিভাবে তার ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালাতো সবই আজ মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল তার ।। আর আমি এই ভেবে অবাক হয়ে উঠছিলাম যে একজন শিক্ষিত মেয়ে এই পথ কেন বেছে নিল ।। কি এমন ঘটল তার জীবনে ।। নষ্টা হয়ে সে এই পাঁকে পা দিল না কি সে এখানে এসে নষ্টা হয়ে উঠল ।। 
বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে নতুন একটা বিয়ারের ক্যান খুলে বসল সে ।। গল্পের নেশা ইতিমধ্যে আমাকে পেয়ে বসেছে ।। তর সইছিল না তাই বলেই ফেললাম , তুমি নষ্টা কি করে হলে ? প্রশ্নটা শুনে কেমন থমকে গেল মেয়েটি ।। বললো , সেটা তো আপনারাই বানিয়েছেন আমাকে ।। একজন ধর্ষিতাকে সমাজ যখন ন্যায় দিতে পারে না , তখন তার কাজ করার অধিকার কেন কেড়ে নেওয়া হবে ? ধর্ষিতা !! শুনেই চমকে উঠলাম ।। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো , অবাক হলেন নাকি !! হ্যাঁ আমি একজন ধর্ষিতা ।। এই সমাজ আমাকে করে তুলেছে পতিতা আর আমি শুধু সমাজের আদেশ পালন করছি মাত্র ।। 
কি সব বলছ তুমি ? কে তোমায় ধর্ষণ করল ?? বেশ অবাক হয়েই প্রশ্নটা পেড়ে দিলাম নষ্টার সামনে ।। আমার চোখে চোখ মেলাতে পারল না ।। ওর মুখে ঘেন্যা ভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠল ।। তারই মধ্যে আস্তে করে বলল , পিসেমসাই ।। সেই রাতটা কোনদিন ভুলব না আমি , আমাকে ঠেলে দেওয়া হল বেশ্যাদের পথে ।। বাড়িতে পিসেমসাই আর আমি , পিসিমা গেছেন বাপের বাড়ি ।। দরজাটা ভেজিয়ে পড়তে বসেছি একটু , ভিতরে ঢুকলেন পিসেমসাই আমার ।। ঢুকেই দরজাটা বন্ধ করে দিলেন ।। আমি বললাম , কি করছ !! কিছু না বলে পাগল কুকুরের মত আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল , স্কার্ট টপ ছিড়ে ফেলে দিলেন নিমেষের মধ্যে ।। আমি তখন উলঙ্গ হয়ে পড়ে , তিনিও উলঙ্গ হলেন আমার সামনে ।। লজ্জায় তাকাতে পারছিলাম না উনার দিকে ।। ওকে থামিয়ে বললাম , তুমি সব হতে দিলে , চ্যাচাওনি ।। বললো , সে সুযোগ দেয়নি ।। আমার মুখ বেঁধে বুক পেট কামড়ে খেল কুত্তাটা ।। পড়ে জানাওনি কাউকে ।। মুচকি হেসে বললো , মেয়ে তো আমি ।। এত সহজ হয় না আমাদের পক্ষে এসব কিছু লোককে জানান ।। আর এই সুযোগটাই নিল কুত্তাটা আবার ।। টানা সাতদিন বন্ধ ঘরে চলত আমার যৌনতার পরীক্ষা ।। এসব কিছু আর সহ্য করা যাচ্ছিল না ।। 
কি করলে তুমি ? ওকে জিজ্ঞাসা করলাম ।। নষ্টা একটা সিগারেট ধরাল আমাকে একটা দিল ।। আমি এবার মানা করতে পারি নি ।। ধোয়ার ওপাশ থেকে একটা শব্দ ভেসে এল এবার , খুন ।। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যাই ।। পুলিশ অনেক খুঁজেছিল কিন্তু পাইনি আর তার একমাত্র কারণ আমার বয়ফ্রেন্ড অনিমেষ হাহা ।। বুঝলাম সম্পূর্ন নামটা এড়িয়ে গেল ।। এদিকে ও বলে চললো , আমাকে নিজের ঘরে দীর্ঘ তিন বছর লুকিয়ে রেখেছিল ।। যেদিন কোর্ট পিসেমসাই কে ধর্ষক উপাধি দিয়ে হত্যাটাকে একটা সেলফ ডিফেন্স ঘোষণা করল , সেদিন প্রথম আত্মসমর্পণ করলাম কোর্টে ।। আমাকে বেকসুর খালাস করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সমাজের চোখে আমার পরিচয়টা সম্পূর্ণ বদলে গেছিল এর পর থেকেই ।। ওদের কাছে আমি এখন হয়ে গেছিলাম একজন নষ্টা , যার কোন স্থান নেই এই সমাজে ।। এখন আমার একটাই পথ বাকি -- আত্মহত্যা বা সুইসাইড ।। বহুবার চেষ্টাও করেছিলাম কিন্তু অনিমেষ আমাকে মরতে দেয় নি ।। তার দুই বনের পাশাপাশি আমাকে সম্মান দিয়েছিল , পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছিল নিজের স্ত্রী র মতন ।। এটা ঠিক সামাজিক মতে আমরা এখনো অবিবাহিত , কিন্তু মনের আঙিনায় আমরা স্বামী স্ত্রী ।। আর তাছাড়া বিয়ে মানে তো মনের মিলন , কি বলেন বাবুমশাই , এতদূর বলেই হা হা করে হাসতে আরম্ভ করল পাগলিটা ।।

৫।।
নষ্টার জীবনের এক অন্ধকারময় অধ্যায় পার করে এগিয়ে এসেছে জীবন আজ রাতে ।। সকালের আলো একটু একটু করে ফুটে উঠছে ।। এদিকে নষ্টার সেই প্রাণ খোলা হাসির মধ্যে কেমন একটা কষ্ট পরিস্কার ফুটে উঠছিল ।। আস্তে করে নষ্টা কে থামাতে চাইলাম , কিন্তু ওর ওই প্রাণ খোলা হাসি , হোক না সেটা বিদ্রুপ মাত্র , তবু থামাতে দিল না ।। ক্রমাগত বেরিয়ে আসা হাসিটা থামতে বেশ সময় নিল ।। তারপর আবার শুরু করল সে ।। আমরা দুইজন ও ওর দুইবোন একসঙ্গে দিব্বি থাকছিলাম , এর পর থেকে ।। ছেলেটা একটা প্রাইভেট ফার্মে মজদুর খাটতে ঢুকে গেছিল , মাসে ওই হাজার চারেক মাইনে ।। খুব সকালে ট্রেন ধরতে হত ওকে ।। ও বেরিয়ে গেলে আমিও বেরতাম কোনো কাজ যদি জোটে ।। অনেক জায়গায় গেছি , অনেকের দ্বারস্থ হয়েছি ; জানো কি উত্তর পেয়েছিলাম ।। আমি বললাম , কি ? বললো , লোভে ভরা চোখ দুটো এই মাই দুটো দেখলো কাপড়ের ওপর থেকে , তারপর হাতটা এগিয়ে এনেও থামিয়ে দিত , তারপর বলত , বেবি , ইউ আর সো হট ।। আজ রাত ... একজন দুজন নয় , পাঁচ পাঁচটি অফার এসেছিল আর আমি পালিয়ে বেরিয়েছি শুধু ।। মাস্টার্স এর দাম এত সস্তা জানলাম সেদিন প্রথম ।। আমার ডিগ্রি গুলোর থেকে আমার শরীরের দাম তখন অনেক বেশি ।। অন্যদিকে বাকি যারা একটু ভদ্র তারা আসল গল্পটা না জেনেই , তাড়িয়ে দিত ।। এ সমাজ জংলীদের জন্য , বন্যদের জন্য , ধর্ষিতা ও খুনিদের জন্য নয় ।। দিন কেটে রাত হত আর রাত কেটে দিন ।। আমার জন্য এ সমাজের কাছে কোন মূল্য আর শেষ ছিল না ।। এত বড় মাপের ব্যর্থতা আমি জীবনেও দেখি নি আর তাই হয়ত আস্তে আস্তে আরো ভেঙে পড়ছিলাম ।। কথায় আছে , অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায় , আমার ভাগ্যটাও ঠিক সেরকম ।। একে কোথাও কোন চাকরি জুটছে না যখন , তখন একদিন বিকেলে আর এক দুঃসংবাদ ধেয়ে এল অনিমেষের বন্ধু তথা সহকর্মী আতিফের কাছ থেকে ।। হাঁফাতে হাঁফাতে বাড়িতে এসে দরজা ধাক্কা দিতে লাগল ।। তখন দুই বোন ইস্কুলে আর আমি একটু জিরাচ্ছি শুয়ে শুয়ে ।। আতিফের গলা আমার বেশ চেনা , অনেক বার অনিমেষের সাথে বাড়িতে এসেছে ।। নষ্টাকে আমার সাথে ওই ঘরে এই প্রথম বেশ স্বচ্ছন্দ মনে হল ।। ওকে এই রকম খোলামেলা দেখে আমি আরও অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম ।। আজ ও কোনভাবেই আমার নষ্টা নয় , আজ ও এক স্বপ্নময়ী স্বপ্না ।। কিছুক্ষনের জন্য ঘর ছেড়ে বাইরে গেছিল , জানিনা কোথায় ,তবে কিছুক্ষনের মধ্যেই দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে এল , দেখলাম ওর হাতে একটা ছবি ।। আমাকে দেখিয়ে বললো , এই আমার অনিমেষ ।। কি সুন্দর না !! দেখুন ।। আজ কিন্তু এই সৌন্দর্যে কলঙ্ক লেগে গেছে ।। সেদিন আতিফ বাড়িতে এসে জানায় যে অনিমেষ ট্রেন থেকে পড়ে গেছে , তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।। খবরটা সেদিন ঠিক কি প্রভাব ফেলেছিল সেটা বলতে পারব না , আপাতত , দেখলাম ওর দু চোখ বেয়ে জল বয়ে চলেছে ।। হঠাৎ সম্পূর্ণ অবচেতন হয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়ল নষ্টা ।। কি করব কিছুই বুঝতে না পেরে আস্তে করে ওকে সামনের বিছানায় শুইয়ে দিলাম , কয়েক ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিলাম পাশে রাখা জগ থেকে ।। ধীরে ধীরে চোখ খুললো নষ্টা ।।

৬।। 
বাইরে পৃথিবী যখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছে  , তখন একটি বন্ধ ঘরের ভিতরে আমরা দুজন এক গভীর আলাপে মত্ত ।। স্বপ্নার বলে যাওয়া গল্পের আড়ালে আমি খুঁজে দেখছি তখন হাজার হাজার দেহ ব্যবসায়ীর যন্ত্রনা ।। এরা কেউ শখ করে এই কঠিন পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসেনি ।। হয়ত এমন স্বপ্নারা অনেক কষ্টে এই পথ বেছে নেয় , তবু একটা প্রশ্ন তো মনে জেগে ওঠেই ; এরাও এই গণতান্ত্রিক দেশের একটি অঙ্গ ।। এদের ভোটে সরকার গঠন হয় যখন , তখন সরকার এই রকম হাজার হাজার স্বপ্নার স্বপ্ন পূরণের জন্য তাদের এই অন্ধকার পরিবেশ থেকে বের করে এনে প্রতিষ্ঠিত করতে উদ্যোগ কেন নেয় না !! 
এরাম হাজার প্রশ্নের ঝড় যখন মাথা জুড়ে তোলপাড় হয়ে চলেছে তখন দেখলাম পাশের বিছানা ছেড়ে উঠে বসেছে আমার নষ্টা ।। পাশে গিয়ে বসলাম তার , বললাম , তোমার ঠিকানাটা দেবে ?? একবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো , টিটাগর ।। আর কিছু জিজ্ঞাসা না করে বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে , যাবার আগে একটা কার্ড ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে গেলাম -- এই আমার ফোন নম্বর ।। কাল যোগাযোগ কর আর এখন আমি নিচে দাঁড়াচ্ছি , আমার সঙ্গে চল ।। এ পৃথিবী স্বপ্নার , নষ্টাদের নয় ।।





ধনঞ্জয় 


১।।
পত্রিকার আফিসে এই প্রথমবার যাচ্ছেন ধনঞ্জয় বাবু ।। ধনঞ্জয় পাল , ছোটখাট চেহারার ছেলেটি কলেজ জীবন থেকেই লেখালেখি করে আসছে ।। প্রথম প্রথম বিষয়টা গোপনেই রেখে দিলেও পরবর্তী কালে ধিরে ধিরে বিষয়টা প্রকাশ পায় , সবার সামনে আসে আর এখন তো ধনঞ্জয় রূপনারায়নপুরের  একজন নামকরা কবি ।। লোকাল কাগজ , ম্যাগাজিন গুলোতে এখন নিয়ম মাফিক তার কবিতা ছাপে , লোকাল কবি সম্মেলনেও দু একবার গেছে কিন্তু এতে তার মন একটুও ভরে নি , খিদেটা রয়েই গেছে ।। এগুলো তো ছোট ছোট পত্রিকা , বড় বড় ম্যাগাজিনে লেখা ছাপানোটাই আসল , কিন্তু প্রশ্ন হল তাদের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে সে ।। এক সামান্য মধ্যবৃত্ত সংসার তার ।। বাবা মারা যাওয়ার পর , পরিবারের দায়িত্ব তার ওপর এসে পড়েছে ।। এতে লেখালেখির দিকটায় বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে এটা বলতে বাকি থাকেনা ।। সারাদিন দোকানের দায়িত্ব সেরে রাতে লেখার খাতায় দু কলম লিখতে তার মন একটুও চায় না ।। দিন দিন চোখের সামনে স্বপ্ন গুলো জল হয়ে যেতে দেখা ছাড়া তার কিছুই করার ছিল না ।। মাঝে মাঝে দু ফোঁটা জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লেও সেগুলো ধনঞ্জয় এই ভেবে মুছে নিত যে , সব স্বপ্ন জীবনে পূরণ হয় না ।।
এভাবেই দিন কাটছিল তার ।। ম্যাগাজিন , কবি সম্মেলন এসব এখন বেশ ফিকে হয়ে পড়েছিল ।। একসময়ের শ্রেষ্ঠ আজ ভাগ্যের পরিহাসে সবার মন থেকে মুছে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে ।। কিন্তু কি করবে সেটা জানা ছিল না তার আর তাই এ নিয়ে ভাবতেও ছেড়ে দিয়েছিল সে ।। তবু যেদিন দোকান বন্ধ থাকত সেদিন একলা বসে থাকলে পুরোনো দিন গুলো খুব মনে পড়ত তার ।। সেই গ্ল্যামার আবার যে ফিরবে না এটা প্রায় যখন নিশ্চিত , তখন হঠাৎ একদিন পরিচয় হল তার বসন্ত সরকারের সাথে ।। বাঁকুড়ায় বাড়ি বসন্তের , রূপনারায়নপুর এসেছিল মাস খানেকের জন্য তার জেঠুর বাড়িতে ।। তার জেঠু নিললোহিত সরকার - ধনঞ্জয়ের পাড়াতেই বাড়ি , বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ আর তাই বসন্ত এসেছে ।। 
কথায় কথায় দু জনের মধ্যে বেশ ভাব হয়ে গেছে ।। প্রায় রোজ নিয়ম করে সকাল বিকেল আড্ডা চলত আর এই কারনে ধনঞ্জয় নিজের কষ্ট গুলো ভুলে গেছিল প্রায় কিন্তু সমস্যা হল বন্ধুত্ব ।। অনেক গোপন কথা বন্ধুত্বে আমরা বলে ফেলি , সেখানে গোপন প্রতিভা তো অনায়াসে বেরিয়ে আসবে ; এটা তো স্বাভাবিক ।। আর এক্ষেত্রেও ধনঞ্জয়ের গোপন প্রতিভা , তার স্বপ্ন ও কষ্ট গুলো প্রকাশ পেয়ে গেল হঠাৎ করে বসন্তের কাছে ।। ব্যাস !! তরুণ কবির কবিতা পড়তে আগ্রহ দেখিয়ে বসল সে ।। কিন্তু সে সব তো বাড়িতে , দোকানে তো নেই ।। সুতরাং , ঠিক হল একদিন ফাঁকা দেখে ধনঞ্জয়ের বাড়িতে আসবে বসন্ত ।। সেদিন এ বিষয়ে আরো গল্প আড্ডা হবে আর অবশ্যই হবে কবিতা পাঠ ।।




২।।
রোদের মধ্যে ঘামে ভেজা অচেনা কলকাতার রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে ধনঞ্জয় ।। কত দিনের স্বপ্ন ছিল তার , কোন বড় প্রকাশনিতে তার লেখা বেরোবে ।। আজ যেন সেই স্বপ্নটাই পূরণ হতে চলেছে 
।। ধনঞ্জয়ের মনে হচ্ছে , আকাশের সমস্ত দেব দেবীরা তাকে আজ হাত তুলে আশীর্বাদ ঢালছে ।। কিন্তু এই অভাগার কপালে হঠাৎ এত আশীর্বাদ এর কারণ নিয়ে তার মনে কিন্তু সংশয় রয়েই গেছে ।। এটুকু ভেবে সে নিজেকে স্বান্তনা দিচ্ছে যে সেদিন বাড়িতে প্রথমবার বসন্ত তার কবিতা পড়ে বেশ প্রশংসা করেছিল , অবশ্য এই প্রশংসা বাক্যের ফাঁকে ফাঁকেও বসন্তের আড় চোখটা সে বেশ লক্ষ্য করেছিল সেদিন ।।
তার পর মাস ছয়েক কেটে গেছে , বন্ধুত্ব আরো ঘন হয়েছে দুজনের মধ্যে ।। ইতিমধ্যে ধনঞ্জয় জানতে পেরেছে যে বসন্তও কবিতা লেখে তবে তার লেখা পড়ে দেখবার সুযোগ হয়নি তার কোনদিন ।। তাই বিনা অভিজ্ঞতায় তাকে ভাল বলেই স্বীকৃতি দিয়েছে ধনঞ্জয় ।। আজ কের পথটাও শেষ হচ্ছে না ।। আগে কি হবে , কতদুরের পথ সে কিছুই জানে না ।। দুদিন আগে হঠাৎ কলকাতার সেরা প্রকাশকের কাছ থেকে তার কাছে ফোন এলে সে সাবধানে ঠিকানা লিখে নিয়েছিল ।। এটুকুই রয়েছে তার কাছে ।। আজ হাওড়াতে নেমে বাসে ভিড় দেখে সে হাঁটা শুরু করে ।। আর তখন থেকেই এই অনিশ্চয়তার ভবিতব্যের মধ্যে এগিয়ে চলেছে ধনঞ্জয় ।।
হালকা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বসন্ত বলে উঠল , " এবার দেখি তো তোমার লেখায় কত জাদু আছে ।। ভাল লাগলে তুলে নিয়ে যাব কিন্তু ", বলেই হেসে ফেললো সে ।। কথাটার মধ্যে কতটা ব্যঙ্গ লুকিয়ে আছে তা হাসির আড়ালে খুব লুকিয়ে পড়ল ।। সৎ মনে ধনঞ্জয় সেদিন বসন্তের সমস্ত কথা হজম করে নিয়েছিল আর তারই সাথে নিজের সমস্ত লেখা এর পর থেকে বসন্তকে পাঠাতে থাকে ।। যত দিন যেতে লাগল ধনঞ্জয়ের খাতা আরও সেজে উঠতে শুরু করল ।। প্রতিবাদ , প্রেম কি ছিল না তার মধ্যে আর যত কবিতা লিখত সে ভালোবেসে পাঠাত বসন্তের ঠিকানায় ।। উল্টো দিকে বসন্ত নিজের লেখা পাঠাবে পাঠাবে করেও কোন দিন পাঠিয়ে উঠতে পারে নি ধনঞ্জয়ের কাছে , তবে ধনঞ্জয়ের কবিগুলির প্রশংসা করে তার কাছে উত্তর অবশ্যই লিখত সে প্রতিবার ।। এভাবেই দিন এগোতে লাগল , ধনঞ্জয় ছোট খাট পত্রিকায় নিজের লেখা আবার পাঠাতে শুরু করল ।। পুরোনো হারিয়ে যাওয়া নামটা আবার গুটি গুটি পায়ে ফিরে আসতে লাগল তার কাছে ।।

৩।।
চোখের সামনে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ ।। দোতলার ওপরে ঘরগুলো ছোট ছোট হলেও , ধনঞ্জয়ের চোখে পুরোটাই ঐতিহাসিক একটা জায়গা ।। কাঁচের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই এক মহিলা জিজ্ঞাসা করে উঠল , " কার সাথে দেখা করবেন ?" তিনি সমস্ত কিছু খুলে বলতেই তাকে জানান হল পান্ডুলিপিটি চার নম্বর ঘরে জমা করে দিতে ।। সাত দিন পর তাকে ফোন করা হবে ।। 
এক বুক স্বাস নিয়ে পান্ডুলিপি জমা করে রাস্তায় এসে দাঁড়াল সে ।। হঠাৎ পিছন থেকে প্রকাশক ও একটি সুন্দরী যুবতি একে অপরের কাঁধে হাত দিয়ে দরজা ঠেলে বেরিয়ে এসে গাড়িতে চেপে বেরিয়ে গেলেন ।। যদিও প্রকাশক কে সে চিনত না তবু দারোয়ান এর কাছ থেকে জানতে পারে ইনিই প্রকাশক ।। দারোয়ান তাকে আরও জানায় যে এই মেয়েটিকে কাল রাতে বসন্ত বাবুর সাথে স্যার এর রুম থেকে সে বেরিয়ে যেতে দেখেছে ।। বসন্ত লেখালিখি করে তাই বড় প্রকাশকের আফিসে আসা যাওয়া থাকবে এটা তো স্বাভাবিক , এই ভেবে আর কিছু ভাবলো না সে , বরং হাঁটা লাগলো স্টেশনের দিকে ।।
সাত দিন পর সারা গ্রামে হৈ হৈ পড়ে গেল যে ধনঞ্জয় এরেস্ট হয়েছে ।। কে অভিযোগ করল তার বিরুদ্ধে , কি অভিযোগ এসব কিছুই জানতে চাইল না সেদিন ।। যেন সবটাই জানা ছিল তার -- শুধু একটাই প্রশ্ন কবিতাগুলো কার নামে ছাপা হল ?? উত্তর তেমন না এলেও ইন্সপেক্টর শুধু এটুকু বলে থেমে গেল ; আসল মালিক যিনি , তারই .....


---------------------------------------------------------------------------

বাকি সকলের কবিতা ও গল্প

---------------------------------------------------------------------------




নষ্ট পাড়ায় পেশা
                 মৌসুমী ভৌমিক 
 *********************
ওরা তো নষ্ট মেয়ে
থাকে নষ্টপাড়ায়। 
বেছে বেছে নামটাও দেওয়া হয়েছে বেশ -
নষ্টপাড়া। 
শিউলি শেফালির এখনকার ঠিকানা। 
স্বপ্নগুলো তো কবেই মরে গেছে। 
নতুন যে স্বপ্নের জন্ম হয় তা দিয়ে পেট ভরে না। 
এখন নষ্টপাড়ায় পেশা । পেশা !!
পেশা বলতেও ঘৃণা ।
অন্তরে বাহিরে একটা ধিক্কার। 
অথচ ত্যাজ্য ঘৃণিত ঐ নষ্ট দ্বীপে
যাবার কি অমোঘ নেশা। 
ঐ পল্টুবাবু বিনুবাবুর এই নেশাটাই 
রাতের পেশা। 
অথচ সেখানে ঘৃণা নেই। 
ঐ শিউলি শেফালি যেখানে প্রতিরাত্রে
নতুন পুরাতন শরীর ঘেঁটে ঘেঁটে মুখে 
হাসি এনে কতগুলো ঘৃণাকে শরীরে শরীরে
ভরে দেয় ----পেশার তাগিদে--
পল্টুবাবু বিনুবাবু নিজের পয়সা দিয়ে নিজের 
শরীর বেচে আসে নেশার (পেশার) তাগিদে।




'সারোগেসি' মা-
              মৌসুমী ভৌমিক 
************************

যে নারী গর্ভে জন্ম নিলে 
মাতৃ সম্মান তারে দিলে। 
মায়া মমতায় যে ভরিয়ে দিলে
সেই জননীরে দেবীতুল্য করে রাখিলে। 
যে ভগিনী হয়ে- বন্ধু হয়ে এলো
রাখলে তারে জীবন দিয়ে আগলে। 
তবে যদি সন্তানই জীবনে চাইলে 
না হয় বিবাহ নাইবা করলে -
অনাথ, অসহায় কতই না আছে শিশু 
নাহয় নিতে পিতৃক্রোড়ে ভালবেসে।  
'সারোগেসি' মা-এর কি প্রয়োজন 
কখনো কি ভোলাতে পারবে সে মা' র ক্রন্দন ? 
গর্ভ ভাড়া দিল যে মাতৃক্রোড়
সেই আজ হয়ে গেল পর। 
মাতৃস্নেহ হতে বঞ্চিত করিবার 
কে তোমারে দিল অধিকার !
সন্তান সুখে হয়ত হবে গর্বিত পিতা 
কখনও কি ধিক্কারিবে না সেই মাতা ?
ধিক্, ধিক্ তোমারে মাতেঃ
উপার্জিত ধন রবে কি চিরসাথে ?
হায় রে জননী - হায় রে সন্তানহীনা
এ যে নারীত্বের অবমাননা।



%%%আমার প্রতিবাদ%%%

প্রণব


                           (1)
আমার নাকি কঠিন ভাষা,দুর্ভেদ্য মনের ভাব প্রকাশ |
প্রস্তুত আমি মুখোমুখি হতে,সমালোচনাকে করতে লাশ ||
আমার কবিতার ভাবার্থ,খাপছাড়া কিছু মানুষের কাছে |
আমি বোঝাতে যাবো কেন?বোঝার জন্য অভিধান আছে ||
                          (2)
মূল্যবান এই সময়ে আমার,কবিত্ব থেকে আবেগ বেশী|
ভবিষ্যত-হীন ভবিষ্যতে,ইদানীং আমার আগ্রহ বেশী||
আমার নাকি বেকারত্বের,জ্বালা বোঝার ক্ষমতা নেই|
ভালোবাসাও ছেড়ে যাবে,কারণ আমার স্হায়িত্ব নেই||
                         (3)
আমি নাকি সর্বহারা,চাকরীও ফিরে চাইবেনা|
সময় সবই বলে দেবে,বিতর্কতে জড়াবোনা||
আমি নাকি প্রেমের কাঙাল,তোকে ছাড়া বাঁচিনা |
এক-তরফা প্রেম না হলে,ব্যর্থ কবিতা আসেনা ||
                          (4)
আমি নাকি অধঃপতিত,গিটার সব নষ্টের গোড়া |
লেখাপড়ায় অন্যমনস্ক,জীবন অবনতিতে মোড়া ||
বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য সব,তাদের মতে ফলে গেল |
আসলে জীবন অনেক বাকি,প্রতিবাদ তো সবে শুরু হল ||
                         (5)
আমি নাকি দুর্ভাগা বেশী,চাকরী পাওয়ার নেই ক্ষমতা|
কিভাবে কে চাকরী পেল,ভালোভাবেই জানে জনতা ||
আমি নাকি নাবালক বেশী,পূর্ণ-বয়সের স্পর্শ নেই |
তোকে ব্যতীত থাকবো বেঁচে,সাবালকতার দরকার নেই ||
                          (6)
আমি নাকি দুর্বল বেশী,নিরীহ তোর প্রেমের প্রতি |
জটিল দুঃখ পেতে চাই,কবি গায়কের ইচ্ছা অতি ||
আমি নাকি কল্পনাহীন,শুভ সময়ের অভাব খুব |
সময় সবে শুরু 'বন্ধু',দেখো বেঁচে কয়েক যুগ ||




------সাধারণ-----

শ্যামাপদ মালাকার

সমাজের জঞ্জাল হতে শুনবো তোমার-
অমৃতময় বাণী।
তোমাকে দেখতে গিয়ে পাবোনা,-মঞ্চটা রবে দূরে
আগের অাসন বাবুদের রবে- শ্রমিকেরা পিছে।
কিছু গান, কিছু দান গায়বে আরো আগামীর বাণী
সে বাণী শোষিবে রাবণের দল-
মূল্য পাবে কি শ্রমিক!।
দীপ নিভে হবে নিরব কোলাহল
মঞ্চ হবে সমাধীর প্রান্তর
দূর বনে গায়বে বিহগ,- রাতের গজল।

জীর্ণ পাতার মতো নড়বো আমি
সমাজে আবর্জনার স্তুপে।
ঝিঁ-ঝিঁর ঝংকার রাতের অলংকার
পরবে রজনী অঙ্গে
শিশিরের কণা তুলবে ফণা
আমার রুক্ষকণ্ঠে
করবে গ্রাস পৃথিবীর নিঃশ্বাস
শীতের হিমাঙ্ক দিয়ে।
দু'চোখ বুজে রবো সেদিন
চাইবো না তব পানে
কখন ছুটে যাবনা মঞ্চে
পাওয়ার দাবী নিয়ে।
চিনতে গিয়ে ব্যর্থ হবে
হিমের চাবুকে রবো প্রসারণ
দু'ফটা অশ্রু দিও সেদিন
যদিও সে সাধারণ!!।।



---বর্তমান--
শ্যামাপদ মালাকার

ডুবিছে ভরাট জ্ঞানের অরুণ
সাথে নিয়ে যত উজল তরুণ--
অন্তরে সব দেখিছে বসি
কেউ কাহারে কয় না-
ঝুরিবে উতল রুধির দরুণ
বহিবে ভূ-ভাগে সকল করুণ--
মনূষ্যত্বের দুয়ারে বলি
স্বাধীনাতার পাখনা।

পুড়িছে কানন কাঁপিছে গগন
বিবেকের দ্বার ধরেছে অনল
দাদনে বন্দি মর্মের বাণী
ধরিবে কে-সু দর্পন
হাঁসিছে খুনের বিরল প্লাবন
হইছে  প্রকট শীর্ণ ক্ষরণ-
বীর-বিপ্লবীর মন্ত্র কর্ণে
করিবে কে-সু অর্পণ।

সাঁওতাল গানে বধির মাদল
রাজশ্রীর আজ উড়িছে নিচোল--
কোথায় আজি নুকিয়ে আছে
বীর-বিধানের স্রষ্টা!
তাকাও কুমার তুলিয়া লোচন
মায়ের অঙ্গনে অসূর নাচন
কেমনে সহিছো প্রাণে, একি!
বীরপুরুষের আত্মা?

ফেরাও ঊষার স্তিমিত কিরণ
জাগাও প্রভাতে নব শিহরণ-
বিক্ষত করো স্ব-দেশ প্রেমে
করে অাদর্শ সিঞ্চন
গোপনে গভীর ললাট বচন
কাঙ্গাল বেদীতে করে বরিষণ-
পুরাতন ঐ মলিন মুছে
তোল সত্যের স্পন্দন।।




       #  কলধ্বনি  #

        ●  নাসির ওয়াদেন   ●

বাস্তবতা হুমড়ি খেয়ে পড়ে নৈরাশ্যের কোলে 
হিংসাগুলো ধরে মানবতার সূক্ষ্ম গলা চেপে 
কণ্ঠ রোধ হয়ে পড়ে  ভাবাবেগের ছোবলে 
প্রতিবাদী! তুমি কোন মাছ হয়ে উঠবে ছিপে--

কলমের ধার তীক্ষ্ণ, তলোয়ারের অধিক 
হৃদয় ফাৎনা হয়ে ভাসে যতই বলি মানবতা 
আঘাতে প্রত্যাঘাতে --কোনটা ঠিক বা বেঠিক 
পেছনে শত্রু শিবির , ওরাই আবার মানব হোতা!

ঢাল তলোয়ার নেই প্রয়োজন কালি কলমে দাও শান
মিথ্যে দিয়ে জাত ঢাকা যায় ? জঞ্জালে ভরা চারপাশ-- 
অগ্নিকবি আগুন ঝরাও, কণ্ঠে উঠুক বাঁচার গান 
পুড়ে পুড়ে জ্বলছে স্বদেশ,  কবির মুখে লাগাম চাস ?




##   সংযম   ##

         □     নাসির ওয়াদেন     □ 

পশুই কেন --- আত্মাকে কর্ কুরবানি 
মানব হৃদয় কাঁদে বলিস-- এ নফরমানি 
সইবে না তোর খোদার কাছে  , দিস বলি 
লোভকে কোতল কর্ রে মানুষ,  দিনগুলি 
কাটবে সুখে, আনন্দে  আর দিলখোলায় 
পা রাখিস মসজিদের ওই দোরগোলায় ; 
মিথ্যে বলিস, নামাজ পড়িস -- তোর প্রতি 
যত ঘৃণা জমে আছে এই বুকে 
উজার করে উগরে দিলাম তোর দিকে,
মন যদি না শুদ্ধ থাকে, কোরবানীর এই রীতি 
সব কালিমা, গ্লানি মুছে  আজি দিল লাগা 
সংযম আর ভালবাসায় দে ভরে । দিল জাগা।




এ কেমন ফলাফল*****


নিজামউদ্দিন মোল্লা

জীবনের পথ খুবই সরল হয়। কিন্তু এটা আমাদের মানতেই হবে যে, জীবনের পথে কখনো কখনো ভয়ঙ্কর দিনের সম্মুখীন হতে হয়। তা সবাই একবার না একবার এই দিনের সম্মুখীন হয়েছে বা হবে!
       বয়সের সাথে সাথে, জীবনের চাহিদার যে ব্যাপক পরিবর্তন আসে, এটা সবাই জানে। আসলে মানুষের চাহিদার শেষ নেই। যত দিন যায়, চাহিদার সংখ্যা বেড়েই যায় । 
          তাহলে সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা বলি। দিন টায় আর সমস্ত দিনের মতই সূর্য উঠেছিল, কোনো অমঙ্গল সূচক কিছু, ওই দিন টাকে ঘিরে ছিল না।
         আমি তখন থাকতাম গুজরাটে। আজ থেকে বেশ  কয়েক বছর আগে। আমি কয়েক দিনের জন্য ঘুরতে গেছি মাত্র।এই জায়গায় ঠিক দাঙ্গা টা হয়েছিল। হ্যা এখনেই সূত্রপাত হয়েছিল।ঠিক ১০বছর আগে। আমি দাঙ্গার দশবছর পরর গেছি, বুঝতেই পারছ তখন সবই স্বাভাবিক। 
      জায়গার নাম মনে নেই।আমার অল্প বয়স ছিল তখন। ক্লাস  নাইনের ছাত্র।এমনিতে আমার ভুলে যাওয়ার রোগ আছে। গুজরাট রাজ্যের ওই জায়গার মানুষের কাছে অনেক বাঙালী কাজ করে, তাদের কাছেই শোনা সেই দাঙ্গার বিবরণ। জানলাম, তারা হিন্দু বলেই বেঁচে গিয়েছে। নাহলে তাদের শেষ করে দিত, সেদিনের দাঙ্গা।
          দাঙ্গায় কি লাভ! ভারতীয় পরিচয়ের থেকে ধর্মের পরিচয় বড়ো নাকি?আর দাঙ্গা হলে, কাদের লাভ! আসলে যেসব দেশ ভারতের বিরুদ্ধে সবসময়, তারা চাই ভারতের অন্তরাল ক্ষমতা কম হোক, তাই তারা চাই না, ভারতীয় ঐক্য একক নাহয়! কারণ তারা জানে,ভারতের মানুষেরা ধর্মনিয়ে লড়াই করতে ভালবাসে। তাই শত্রুদেশের কাজ, জ্বলন্ত আগুনে ঘি দেওয়া।
   আমি দাঙ্গার বিবরণ শুনেছি। এক অন্য সম্প্রদায়কে শেষ করা, ধর্মের নামে। আসলে সঠিক ধর্ম কি? যদি মানবতাই হয়, তাহলে নিরিহ মানুষ দের হত্যা করা তো মানবধর্মের কাজ নয়।
        খুব কষ্ট হয়েছিল শুনে,তাই বাড়ি এসে এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম কিছুদিন। কে জানে, আবার যদি হয়! সেই দাঙ্গা। আবার যদি হয়,  নর হত্যা। দোষী কে, সেটা খুঁজবে না, তখন হত্যার লীলায় মগ্ন থাকবে।
   যেমন ভাবনা,  তেমন ফল। পরের দিন একটা সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে, ধর্মের বিভেদ হয়েছে। আমার মন বলছিল, যদি এটা বড় আকার নেয়, তাহলে কি হবে? এই রকম সাত পাঁচ ভাবছি, হটাৎ কিছু বোমা আমার পাশের বাড়িতে এসে পড়ল। উফফ সে বলব কি, সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটা কেঁপে উঠল আর তার কিছু সময় পরেই আর্তনাদ কান্নার। হ্যা মেয়েদের কান্না।
আসলে আমরা যেই জায়গায় বাস করছি সেখানে আলাদা কোন পাড়া নেই, একটাই পাড়া একটা মুসলিম বাড়ি হলে অপর টা হিন্দুদের বাড়ি। যেই বাড়িটায় বোম পড়েছে, সেটা পাড়ার সব চেয়ে ভদ্র মানুষের বাড়িতেই পড়ল। ভদ্রলোক এর নাম আবদুল্লা। আবদুল্লা তখন বাড়িতে ছিল না, বোম পড়ার সময়। তখন বাড়িতে ছিল, আবদুল্লার স্ত্রী মৃণালিনী আর তার একমাত্র কন্যা  রিম্পা।
  বোমার শব্দ শুনে আমরা কিছু জন পৌঁছে গেছি। গিয়ে যেটা  দেখলাম সেটা খুব বেদনাদায়ক। রিম্পার প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে। আর মাথার কাছে মৃণালিনী বাক্যহীন মূর্তির মত বসে।
   ও তোমাদের বলতেই ভুলেগেছি, মৃণালিনী হিন্দু পরিবারের কন্যা। আবদুল্লার সাথে প্রেমের কারণে তাদের বিয়ে হয়েছে। ওদের বাড়িতে ধর্ম শুধু নিজস্ব। প্রথমত মানবিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিত আবদুল্লা। তাই মৃণালিনী নিজেকে হিন্দু বধূ রূপেই রাখত।আর এদিকে, আবদুল্লা, সে পাক্কা পাঁচ ওয়াক্তের পূর্ণ নামাজী।
      রিম্পা তাদের খুব আদরের একমাত্র সন্তান। ক্লাস থ্রিতে পড়ে। কিন্তু সেই মেয়েটার লাশ টা সত্যি বেদনাদায়ক। আর রিম্পার প্রতি আমার মায়া একটু বেশিই, কারণ টা ছোট।রিম্পা আমার কাছে পড়তে আসত।খুব ভালো পড়ত।ওর ইচ্ছে ছিল শিক্ষিকা হওয়ার। কিন্তু তার নিস্তেজ দেহ দেখে আমি কেঁদেই ফেললাম। পাড়ার অমল দা আমাকে বলল, "নিলু চুপ কর! আবদুল্লা কে ফোন কর তো!"
আমি চোখ  মুছতে মুছতে বলি," ঠিক আছে, করছি।"
এই বলে আবদুল্লাকে সমস্ত ঘটনা ফোনে বলি।
আবদুল্লা দু দন্ডের মধ্যে এসে ভেঙে পড়ে। যতই হোক পুরুষ, কিন্তু  সন্তানের মৃত্যু সয়ে কিভাবে?

      কয়েক ঘন্টা পড়েই শুনলাম এলাকায় দাঙ্গা বেধেছে। আমি ক্লাস নাইনের ছাত্র, কতই বা বুঝি। আমি বাড়ির মধ্যেই থাকলাম, মা-বাবার কাছে। পাশের বাড়িতে আমার বোনের মত এক মেয়ের লাশ পরে আছে।
  কয়েক ঘন্টার মধ্যে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ এর জন্য সেটা দমন হল, আর তার পরেই আমরা রিম্পার দেহ সাধারণ গোরস্থানে দাফন করে এলাম।
       ততক্ষণ রাত হয়ে গেছে কেউ কারোর খেয়াল নেই। রাস্তায় পুলিশের  সংখ্যা প্রচুর,যাকে  পাচ্ছে তুলে নিচ্ছে। শুধু আমাদের ছাড়ার কারণ, একটা জানাজার লাইন ও একটা বাচ্ছার দেহ কবরস্থ করার জন্য।

 শুনলাম অনেক কটাকেই তুলেছে পুলিশ।  অনেকের বাড়ি ঘর পুড়েছে। যে কয়েকজন বোমাবর্ষণ করেছিল, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ।  পাড়ার কেউ মুখে অন্ন দেয় নি সারাদিন।কিভাবেই দেবে, কারণ রিম্পা ছিল পাড়ার সকলের মেয়ে, সকলের বাড়িতেই ছিল অবাধ যাতায়াত রিম্পার। তাই হয়ত সকলের মনে একটু বেশি আঘাত টা লেগেছে।
      
     দুইদিন পার করে তিন দিন হল, মন টা স্বাভাবিক হয়নি, চারিদিক পুলিশের টহলদারি চলছে।  অনেক যুবক দের বন্দি করেছে কারাগারে। রিম্পাকে কেউ ভুলতে পারেনি, মনে হচ্ছে এই হয়ত রিম্পা হটাৎ চলে আসবে, হয়ত  লুকিয়ে লুকিয়ে তামাশা করছে।
      বেদনা ভরা মন নিয়ে ঘুমতে গিয়েছি, আর ভাবছি, সামান্য দাঙ্গা নামক কি লাভ হল, পরে জানলাম,  ক্ষমতাচালানোর জন্য মানবীয় একতা দৃঢ়তা নষ্টা করা রাজনৈতিক ব্যাপার। শুয়ে পড়েছি, চারদিন হল রিম্পা পড়তে আসেনি আমার কাছে। ও শুধু অঙ্ক টা করতেই আসত।
   অনেক ভাবতে ভাবতে চোখে  তন্দ্রা ভাব এসেছে, ওমনি,ব্যাস ওটা কে! ঠিক অস্পষ্টভাবে দেখলাম। চেনা প্রকৃতির, কিছু সময়ের মধ্যে বুঝলাম ওটা রিম্পা। কিন্তু সে তো আর নেই! তার পর আমি অতি চেনা আওয়াজ শুনতে পেলাম, " দাদা আমার কি দোষ ছিল?।   আমি তো কিছুই করিনি, আমাকে মেরে ফেললে তোমরা। "
 আমার শরীর ঘামতে শুরু হয়েছে, আবার দেখি বলা শুরু করেছে, " আমি এখানেই সুখেই আছি। একটা কথা বলব,  এখানে হিন্দুদের ও বিচার হচ্ছে।"





পনের দাবী

জয়দীপ রায়

পর্ব ১
সাধ করে নয় পনের কাছে
আবারও মাথা হেট
ঘৃণ্য সেই শব্দগুলো  বান মারফৎ
একে একে গোলাবর্ষণ  মহাভারত রিমেক

পর্ব ২
চার পায়ার ভরে শেষ বিদায় নয়...তবু অসংখ্য কান্না
একটা রীতি রেওয়াজ   কু সংস্কার হাতটা নেড়ে 
পনের দায় ধরা পড়েছে  চোখ রাঙিয়ে
মাথা নিছু(চোরের মত)  দেব পরিশোধ
গর্হিত অপরাধীর মত...

পর্ব ৩
ভুলের মাশুল গুনছে  প্রতিদিন রাতবিরেতে
বাতিটা জ্বলে ...
কান্নার আওয়াজ “ ছেড়ে দিন এবারের মত...মারো ওকে” 
ইনভার্টেড লাইনগুলো বিবৃত বিব্রত দরজা কপাট
আর সাক্ষী বারোটার কাঁটা
কালশিটে দাগ ভাঙা পলা আবাধ্য রক্ত ক্ষরণ
থামেনা...!! 
ধীরে ধীরে সয়ে যায় অ্যান্টি সেপ্টিক দাবাই ওর দাগ মেলায় 
অভ্যাস!ওটা বদলায় না  ভিখিরি গুলোর আবদার না মেটায় 




একটি রাত
ইন্দিরা ব্যানার্জী

দেশের রাজধানী; শীতের রাত; এমন কী বা রাত; সবে তো সাড়ে নয়; জ্যোতি-প্রতাপ সিনেমা দেখে যে যার বাড়ির পথে।
হ্যাঁ; দু জন কেবল ই বন্ধু ছিলো.....

ফাঁকা পথ তবে সুনশান তো নয়; ফাঁকা বাস, তবে ওদের নিয়ে জনা আট; রং রুটে বাস ছুটছে; এ কেমন হল...
ওদের বাদে বাকী ছয় জন নর-পিশাচ।

ছয় জন পশু আঁচড়ে কামড়ে খেলো নারী শরীর; লোহার রডে রক্তারক্তি প্রতাপ দেহ; কাঁচ - রড সব ঢুকেছে নারীর গোপন পথে;
অর্ধমৃত দুটি শরীর ঝুপ করে পড়ল রাস্তায়; যেন উল্কাপাত....

তারপর; মোমবাতি মিছিল, কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে প্রতিবাদ।
দেশ জুড়ে আন্দোলন বিচার সংশোধনী; জ্যোতির প্রাণ অক্ষয় জ্যোতি তে জ্বলবে ধিকিধিকি; "নির্ভয়া-দামিনী" অমর হয় নিজে পুড়ে।।



হোক বদল
ইন্দিরা ব্যানার্জী

মেয়ে মানুষ; ঘর গোছাও-রান্না কর-সকলের খেয়াল রাখো-পূজা আর্চ্চা কর-নিয়ম মানো নিয়ম করে; 
সফল স্বামীর স্বার্থক অর্ধাঙ্গিনী হয়ে তার গর্বে গর্বিত হও।

ধিঙ্গী রা সব গাড়ি চালায়; পার্টি করে; কবিতা লেখে; ফুটবল-ক্রিকেট খেলে; একা একা রাত বিরেতে বাড়ি ফেরে।

ধিঙ্গীদের সংসার হয় না; ধিঙ্গীরা "মা" হতে পারে না; নারী জনম ব্যর্থ তাদের----মা এখন এমন ই বলেন।

অথচ; বাবার অফিস পথে মা ই "দুগ্গা-দুগ্গা" বলে প্রনাম করেন আকাশমুখো হয়ে।

দুগ্গা তো ধিঙ্গী বড়; সিংহের পিঠে চড়ে; ত্রিশূল দিয়ে অসুর মারে; দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে ঘোরে; তাও সে শিবের ঘরনী শিবানী; কার্তিক-গনেশ-লক্ষ্মী-সরস্বতীর মা।

এ কেমন হল...
ধিঙ্গীর সংসার...
বোঝা কঠিন কেমন ধারা ব্যাপার স্যাপার।

যুগ এগোয়-সমাজ এগোয়-চিন্তা কেন পাল্টায় না?
সংস্কার গুলো 'কু' তে আচ্ছন্ন; সময়ের সাথে মানুষিকতা কেন বদলাবে না?




<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
কবিতারা কি বলে
<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
দোলা ঘোষাল
<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
আচ্ছা কবিতা কি মাঝে মাঝে আমায় পেয়ে বসে
ওই যে মেয়েটা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে
দেখে মনে হয় নিম্নবিত্ত পরিবারের খেটে খাওয়া
এক মাত্র রোজগেরে সদস্য
ওকেও কি কবিতারা পেয়ে বসে মাঝে মাঝে
তুমি যে কবিতা লেখো
কোন্ দলে পরো তুমি
কবি না অকবি না আঁতেল
তুমি কি তাদের গোষ্ঠীভুক্ত যারা চ্যানেল করে
পুরস্কার পায় কিংবা তাদের দলের যারা নাকি
সারাদিন পরে অর্ধ রাত্রি অবধি মদ্যপান করে 
দেশোদ্ধার করে বা মুখে বড় বড় বুলি আওড়াও
অথচ সুন্দরী মেয়ে দেখলেই শরীর আনচান করে ওঠে
আচ্ছা কবি কবিতা তোমায় কি সুখ দেয়
তোমায় বড়লোক করে দেয় বা
কোন্ স্বর্গীয় সুখ দেয়
তোমার ভবিষত্য সুরক্ষিত করে
করে না তবে কবিতা কেন লেখো
কি সুখে বা কি দুঃখে



অনন্ত সময় পেরিয়ে শুধু সামনে এগিয়ে চলো কবি
কবিতারা তোমায় বড্ড বোকা বানায়
আর গল্প-প্রবন্ধ-উপন্যাস বড় ভাবায়
বাস্তব জগত মুছে দিয়ে শুধু চরিত্রদের মধ্যে ঘোরো তুমি
আরে মশাই দেখে রাস্তা পার হন
এই কথাও শুনতে হয় পথচারীর কাছে
তখন তুমি তোমার উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেছো
কি বোকা বোকা না
ছেড়ে দাও ও সব ভাবো কবি ভাবো
নিজেকে নিয়ে ভাবো
ভাবো আগত দিনের অন্ধকারকে নিয়ে
রইলে না হয় অকবির দলে
যদি থাকে কয়েকটা বিদেশী গাড়ি
সঠিক ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ওইরকম কবিতা 
কত আসবে আর যাবে 
সঠিক কবিতাই পারে বিপ্লব আনতে 
কিন্তু তুমি না হয় থাকলে অকবিদের দলে



কবিতারা কি জ্বালায় তোমায়
নাকি বড় শান্তি দেয় কবিতা তোমার আঙ্গুলকে
তোমার সদ্যজাত সন্তানের মত বুকে ধরে
ভুলে যাও এই পৃথিবীর সব যন্ত্রনা।।




<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
এবং দিনযাপন
<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<
দোলা ঘোষাল
<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<


প্রলম্বিত নিলয় থেকে যতটুকু আলো আসে
সেটুকুই অনন্ত আকাশ তবু মনকে চলতে বলি
থামবে কেন থেমে নেই হিরোসিমা-নাগাসাকি
থেমে নেই হিমলয় গ্রাস করবেই সে দেশ-সমুদ্র-নদী-আকাশ
এ-কে ৪৭ এর সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলা
আমি বাঁচতে চাই আর 'মেঘে ঢাকা তারা'
দুইই কি এক নাকি আকাশ গ্রাস করেছে আয়ুকে
যে মেয়ে সিরিয়ালের নায়ককে ভালবেসে ঘর ছাড়ল
তার অবস্থান আজ কোথায়
সে কি এখন বারবণিতা না সিরিয়ালের হিরোইন
না বৌ হয়ে কেটে গেলো বিগত কয়েক বছর
সেলুলয়েডের জগত বড় মায়াবী
হাতছানি দিয়ে ডাকে নিশির ডাকের মতন



অন্য জগতে চলে যাও কেন বারবার
নিশিদিন বসে থাকা তোমার কছে
ভাল করে চেয়ে দেখ একবার
অনন্ত সময় অপেক্ষা করছে তোমার হাত ধরবে বলে
আগুন আগুন শরীর নিয়ে কিছু অপেক্ষা এখনও বাকি
ভাল থাকার রসায়ন বোধহয় তুমি শেখো নি এ জীবনে
বুকের ভেতরে যে ফাগুন করে আসা-যাওয়া
তাকে পুড়িয়ে মেরো না কখনও
ফাগুন শেষ হলো কিন্তু জীবন থামল না
জীবন বড় কঠিন তাকে কিছুতেই হার মানাতে পারবে না
অন্তহীনের মধ্যে হারিয়ে যেতে যেতে ফিরতে চেয়েছি বারবার
তবু সে ফেরা হয়ে গেছে না ফেরার সামিল
শামুকের খোলসের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে রেখেও
বাঁচতে পারবে না নিঃসীম অন্ধকার থেকে
যে মেয়েটা ভালবাসতে গিয়ে বিক্রি হয়ে গেছে
পণ্য হয়ে গেছে মানুষ নামক কিছু হিংস্র শ্বাপদের
সেও প্রেয়সী হতে চেয়েছিলো
চেয়েছিলো গৃহিনী হতে
চেয়েছিলো মা হতে
হলো না কিছুই হয়ে গেলো পণ্য মাত্র
ওদের ভাষায়'হেভি মাল'
ওরা মাপে সেই মেয়ের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
বুক-পাছা-মাই সব সব তারপর ঢুকতে চায়
তার শরীরের গোপন অলিন্দেও
তারপর সে চলে যায় বিহারের কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে
মুম্বাইয়ের কোনও গলিতে



আকাশ আজ আর কথা বলে না কারুর সঙ্গে
সে শুধু নিশ্চুপ হয়ে দেখে নিঃসীমতাকে বুকে নিয়ে
দেখে যায় যন্ত্রনাগুলোকে কিভাবে পার হয়ে যায়
হার্ডেল রেসের মতন
ভাল করে ভেবে দেখো তো
সত্যি কি আমরা মানুষ হয়েছি
না আদিম প্রজাতি রয়ে গেছি আজও
ভাল না বাসতে পারি
সর্বনাশ করার ক্ষমতা অর্জন করেছি পুরো মাত্রায়
তারপর এবং সে ও আমি মিশে যাই
অন্ধকারের কোটরে কোটরে
অনুমতি পাই নি সূর্য তপস্যার
অনুমতি পাই নি বিদূষী হবার
তবু তপস্যা করে যাই
অনন্ত সময়ের অনন্তকালের
এখন মনে হয় কিছু আশার কিছু নিরাশার
আগুনের ঘরে বসে আগুনকে ছোঁয়ার দুঃসাহস দেখাই
সময়কে বলে দিয়েছি অনন্তে হারিয়ে যেতে
তাই তো এবার আসি তোমাদের কাছে বিদায় নিতে
কিংবা তুমি বা তুমি কিংবা
সবাই তো চলে যাবে ওই অনন্তের পথে
ডাহুক ডাকা দুপরে নিঃশব্দতার ভেতর
নিশ্চিন্ত দিনযাপন বড়ই কঠিন
ভেবে নাও আছ ৪০ কিংবা ৫০ এর দশকে
জীবন তখন একদিকে উত্তাল
একদিকে নিস্তরঙ্গ
এখন শুধুই দিন যাপন আর চুপচাপ সয়ে যাওয়া
এ বড়ই সরল জীবন তবু ভালবাসা আজও আছে
যদিও বিক্রি হয়ে যাওয়া ভালবাসা তবু সে আছে
দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সে ডাকে
কিন্তু আসি আমি আসি এবার
নিঃসীমতাকে ভালবেসে
অন্ধকারকে ভালবেসে
চলে যাই অনন্তের মাঝে।।



                  শিশুকন্যা বাল্যবিবাহ
                          সুদীপ্ত সেন 
                          
মেয়েরাও গড়তে পারে দেশ
            গড়তে পারে নতুন কোনো সমাজ
করোনা অবহেলিত তাদের
             শিশুতেই বিবাহ দিয়ে আজ।।

কন্যাতো হতেই পারে, দোষ নেইকো যেন,
ছেলে হলে পাইনাতো ভয়,
                            মেয়ে হলে ভয় কেন?
মেয়েরা পুতুল খেলে,  দেয় পুতুলের বিয়ে
তাদের ওটা আকাঙ্খা নয়, নিছক খেলা,
             ভুল করোনা শিশুর বিয়ে দিয়ে।।




   [ মিছিল সাথে স্বার্থ ছোটে]
              সুদীপ্ত সেন

এই দ্যাখ দ্যাখ মিছিল আসে
স্বার্থ তাদের পাছে পাছে
স্বর্থ  নিয়েই ছুটছে কত,
       নরনারী আজ মিছিল পথে
 ওদের কাছে আছে উল্লাস,
              কারোর কাছে পতাকা আছে
 কেউ আবার গান ধরেছে,
                  এতেও তাদের স্বার্থ আছে।
 রাস্তা-ঘাটে ভিঁড় জমেছে,
               মাথায় মাথায় লাগছে ঠোকা
  কেউ বলছে এনক্লাব,
              কেউ চলছে অন্যপথে
     সবার সাথেই স্বার্থ  আছে।
  পথে পথে পার্টি অফিস,
                    হচ্ছে কত তৈরী রে ভাই
পরিকল্পনা মটেও তো নাই,
              বরং শুধুই স্বার্থ আছে।
   ঔ দ্যাখ দ্যাখ মিছিল পথে,
              কেউ নিয়েছে হাত পতাকা
   কেউ নিয়েছে ফুলের ছবি,
            কেউ বা দেখি দয়ালু সেজে
   নিয়েছে হাতে কাস্তে তুলি,
          কেউ বা দেখি সিংহ মামা,
     কারোর দেখি মাথায় টুপি।
   যে যেভাবেয় সেজে উঠুক,
             রঙবে রঙ -এর দলের জামায়
    শুনে রাখো বন্ধুরা সব --
    স্বার্থ তাদের হয়না কামায়।।


---------------------------------------------------------------------------


গর্জন শুধু এখানে এইটুকু গন্ডিতে থেমে থাকতে পারে না ।। আরো প্রসারিত হোক  ভাষা মানুষের মাঝে ।।

ধন্যবাদ ।।

সম্পাদক 
সন্দীপ দাস 

Comments

  1. সত্যিই থেমে থাকা অসম্ভব

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ মতামতের জন্য ।।

      Delete

Post a Comment